এসএসসিতে বেড়েছে পরীক্ষার্থী

ঢাকা: আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন। এবার ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হবে ২ মার্চ। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪-১১ মার্চের মধ্যে শেষ হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিন হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। বিদেশে কেন্দ্র রয়েছে আটটি, যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৪৬ জন।

আটটি সাধার বোর্ডে এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন। এরমধ্যে ছাত্র সাত লাখ দুই হাজার ২৯৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা সাত লাখ ২৩ হাজার ৬০১ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে (ভোকেশনাল) এক লাখ চার হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।

গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও এবার এক লাখ ৩৫ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ।

মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার ছাত্রের সংখ্যা নয় লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা আট লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন।

প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণ বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি; মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শুরুতে এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সকাল সাড়ে নয়টায় শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে। নয়টা ৩৫মিনিটে উত্তরপত্র দেওয়া হবে।

এবার এসএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এ বছর হতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডসমূহের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থা চালু রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ জানান, এর ফলে কেন্দ্রগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠানে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করেন নাহিদ।

সংভাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, শিক্ষা মরন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।