পৌষালির পথ চলা

পৌষ মাসে জন্ম বলেই তাঁর নাম পৌষালী। পৌষালী ভট্টাচার্য একাধারে কণ্ঠশিল্পী, মেধাবী শিক্ষার্থী, নগরবিদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিজয়ী। পড়ছেন বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শেষ বর্ষে।
শরতের এক বিকেলে বুয়েট ক্যাম্পাসে পৌষালীর সঙ্গে আড্ডায় প্রথমেই উঠে আসে গানের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নিচ্ছেন ওস্তাদ কারিম শাহাবুদ্দিনের কাছে। যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, সেই সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’তে উচ্চাঙ্গসংগীতে অর্জন করে নেন তৃতীয় স্থান। এ ছাড়া ছোটবেলায় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন অনেকবার। বুয়েটে ভর্তির পর থেকে জড়িত আছেন বুয়েটের সাংস্কৃতিক সংগঠন মূর্ছনার সঙ্গে। কিছুদিন আগে মূর্ছনার শিল্পীদের নিয়ে প্রকাশিত অ্যালবাম অভিপ্রিয় এবং মূর্ছনাতে কণ্ঠ দিয়েছেন ‘এবং তুমি’ শিরোনামের একটি মৌলিক গানে।
অর্জিত পুরস্কারের ডালিটাও বেশ বড় পৌষালীর। তৃতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় ইউএন-হ্যাবিট্যাট আয়োজিত ‘আরবান রিভাইটালাইজেশন অব ম্যাস-হাউসিং’-এ আরও পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে গঠিত তাঁর দল ‘শাইনিং স্টারস’ বিশ্বপর্যায়ে শীর্ষ তিনে আর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ও বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়। এখানেই শেষ নয়। সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া বিখ্যাত ফরাসি কোম্পানি ‘ডেফি বুগেস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র ‘ডিজাইন দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব টুমরো’ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল ‘গ্রিন ফিউশনিস্ট’ অর্জন করে ‘ক্যুপ ডি ক্যুর’ অ্যাওয়ার্ড। ২০০৯ সালে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন’ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিয়ে ভারতে আয়োজিত উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরবও আছে তাঁর।
এ তো গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কথা। দেশীয় অঙ্গনে ছোট-বড় সাফল্য তাঁর নিত্যসঙ্গী। এই তো কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ সপ্তাহ ২০১৫’তে ‘আইডিয়া কনটেস্ট’-এ প্রথম স্থান অধিকার করে নেয় তাঁর দল। ওদিকে গত বছর ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রসিডিংস অব কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ শীর্ষক সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস এমিশনের ওপর প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একটি সমন্বিত গবেষণাপত্রও।
পৌষালীর জন্ম চট্টগ্রামে, তবে বেড়ে ওঠা ঢাকাতে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার এইচ এফ কিন্ডারগার্টেন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এসএসসি এবং এইচএসসিতে সব বিষয়ে পেয়েছেন জিপিএ-৫।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে স্মিত হেসে বলেন, ‘আমি একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবেই নিজেকে দেখতে চাই। আমাদের দেশের এই সীমিত সম্পদকে কীভাবে আরও সঠিকভাবে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়, সেই চেষ্টা করব।’